পৌষের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় যখন জনজীবন স্থবির, মধ্যবিত্ত মানুষ যখন উষ্ণ কম্বলের নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে—ঠিক তখন শহরের ফুটপাত, ওভারব্রিজ, রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম আর পার্কের বেঞ্চে ছেঁড়া পলিথিন কিংবা চটের বস্তা গায়ে জড়িয়ে থরথর করে কাঁপছিল কিছু নিঃস্ব মানুষ। তাদের কাছে শীত কোনো উপভোগের ঋতু নয়; শীত মানে বাঁচার এক তীব্র সংগ্রাম।
রাতের আঁধারে ভালোবাসার পরশ
এই চরম পরিস্থিতিতে আমাদের 'oxygenbd সংস্থা'-র একদল তরুণ ও নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী সিদ্ধান্ত নেন ঘরে বসে না থেকে সরাসরি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। গত ১৫ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে এই বিশেষ কম্বল বিতরণ অভিযান।
টিমগুলো ঢাকা শহরের কমলাপুর রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজার আড়ত এলাকা, হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন ফুটপাত এবং সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে তল্লাশি চালায়। কোনো ধরনের ফটোসেশনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই, ঘুমন্ত ও শীতার্ত মানুষের শরীরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে জড়িয়ে দেওয়া হয় মোটা, টেকসই ও উষ্ণ কম্বল।
"বাবা, রাইতে ঠান্ডায় ঘুম আসে না, বুক ব্যথা করে। তোমরা যখন এই কম্বলটা গায়ে দিলা, মনে হইলো স্বয়ং আল্লাহ তোমাদের আমার কাছে পাঠাইছে।"
— কাঁপতে কাঁপতে অশ্রুসজল চোখে বললেন কমলাপুর স্টেশনের ৭০ বছর বয়সী রহমত আলী চাচা
স্বচ্ছতা ও প্রতিটি দানের সঠিক ব্যবহার
আমাদের এই উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ আর্থিকভাবে শরিক হয়েছেন। আপনাদের পাঠানো প্রতিটি টাকার হিসাব আমরা পাই টু পাই নিশ্চিত করেছি। পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি যাচাই করে সেরা মানের কম্বল কেনা হয়েছিল, যাতে এগুলো দীর্ঘ সময় শীতার্ত মানুষের উপকারে আসে।